আবুল কাশেম, রামু;

কক্সবাজারের রামুতে এক সফল অভিযান পরিচালনা করে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ পিস (প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার) ইয়াবাসহ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির একই এলাকার তিন নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১৫)।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রামু থানাধীন বৌদ্ধ মন্দির সড়ক ও চৌমুহনী বাজার এলাকায় দুই দফায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে অভিযুক্তরা নিজেদের শরীরে বিশেষ কৌশলে কালো পলিথিন ও স্কচটেপ দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পেঁচিয়ে রেখেছিল।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জালিয়াছড়ি গ্রামের আলী আকবরের মেয়ে লাইলী বেগম (২৬), সালেহ আহমেদের মেয়ে গুল বাহার (৩৫) এবং ইউসুফ আলীর মেয়ে হাজেরা খাতুন (৬৫)। তারা একই এলাকার বাসিন্দা এবং একটি সংঘবদ্ধ নারী মাদক পাচারচক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-১৫, সিপিএসসি (কক্সবাজার) সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে র‍্যাবের একটি আভিযানিক দল নিয়মিত টহলের সময় গোপন সংবাদ পায় যে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে একটি ইজিবাইক (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) যোগে মাদকের একটি বড় চালান রামুর দিকে আসছে। তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব সদস্যরা রামু হাইটুপি (বুথপাড়া) সংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ি-রামু সড়কে একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি শুরু করেন।

তল্লাশিকালে সন্দেহভাজন একটি ইজিবাইক চেকপোস্টে পৌঁছালে নারী র‍্যাব সদস্যদের সহায়তায় দুই নারী যাত্রী লাইলী বেগম ও গুল বাহারের দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাদের শরীরে অভিনব উপায়ে পেঁচানো অবস্থায় ৩৮টি ইয়াবার বান্ডেল উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত রামু চৌমুহনী বাজারের রহিম কমপ্লেক্সের সামনে অভিযান চালিয়ে হাজেরা খাতুনকে আটক করা হয়। তার দেহ তল্লাশি করে আরও ২২টি বান্ডেল উদ্ধার করা হয়।

সর্বমোট ৬০টি বান্ডেল থেকে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত নারীরা স্বীকার করেছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে নারী সদস্যদের ব্যবহার করে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি মূল্যে সরবরাহ করে আসছিলেন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে জব্দকৃত আলামতসহ রামু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।